Menu |||

বিএনপির শীর্ষ নেতারা ফের গ্রেপ্তার আতঙ্কে

জাকির  সিকদার,স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভুগছেন। এরই মধ্য ৬৮ জন সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর অনেক নেতা প্রকাশ্যে আসছেন না। আত্মগোপনে থেকে দলের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। যারা প্রকাশ্যে আসছেন তদের গ্রেপ্তার আতঙ্ক তাড়া করে ফিরছে। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এরই মধ্য গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ আছেন। তাকে যে কোন সময় গ্রেপ্তার করতে পারে পুলিশ। এছাড়া বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের ৭ বছরের কারাদ- ও ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকাকে ১৩ বছরের সাজা দিয়েছে আদালত। ২৫ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানার নাশকতার মামলায় বিএনপির সিনিয়র ৯ নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ২৭ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে যাত্রী হত্যা চেষ্টার অভিযোগে বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় বিএনপি নেত্রী সেলিমা রহমানসহ ৫৯ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর মতিঝিল থানায় দায়ের করা

নাশকতার একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
এর আগে ৩০ মার্চ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার নাশকতার একটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মাল্লা বিশেষ ক্ষমতা আইনের ওই মামলার চার্জশিট আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। চার্জশিটে খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি হিসেবে ১ নম্বরে রাখা হয়েছে। এরপর ৪ এপ্রিল খালেদা জিয়া আত্মসমর্পণের পর তার জামিন মঞ্জুর করেন মহানগর হাকিম রাশেদ তালুকদার। ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। পাশাপাশি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আগামী ৪ মার্চ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরে বেগম খালেদা

জিয়া আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা সিনিয়র নেতাদের মধ্য রয়েছে- সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, বরকত উল্লাহ বুলু, খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস, সাবেক এমপি সৈয়দা আশরাফি পাপিয়া, খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, মীর সরাফত আলী সফু, হাবিবুন্নবী খান সোহেল।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী ঢাকাসহ সারাদেশে দলের ৭ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ হাজার মামলার খড়গ ঝুলছে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে সিনিয়র সব নেতাই এখন কাঠগড়ার আসামি।
ওয়ান-ইলেভেনের দুর্নীতি মামলাও সমানতালে সচল হচ্ছে। এরই মধ্যে নিম্ন আদালতে খালাস পাওয়া অর্থ পাচারের এক মামলায় উচ্চ আদালতে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৭ বছরের সাজা হয়েছে। অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে দলের আরেক ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার সাজা হয়েছে ১৩ বছর। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরেরও মৃত্যুদ- হয়েছে। সাজা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী ও তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনেরও।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের শঙ্কা, বেগম খালেদা জিয়াসহ সিনিয়র সব নেতাকেই এ পদ্ধতিতে সরকার নির্বাচনে ‘অযোগ্য’ করে সংসদ নির্বাচন দিতে পারে। সেটা আগামও হতে পারে, আবার নির্ধারিত মেয়াদ শেষেও হতে পারে। তবে আগামীতে সংসদ নির্বাচন যখনই হোক অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার নিশ্চয়তা পেলে তাতে অংশ নেবে বিএনপি। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর অধীনে হলেও নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে দলটির নেতা-কর্মীর বড় একটি অংশ। নির্বাচনে অংশ নেওয়া ছাড়া বিএনপির সামনে বিকল্প কোনো পথও খোলা নেই বলে মনে করেন নেতাদের কেউ কেউ।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা করছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে মামলাগুলো তড়িঘড়ি করে শেষ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তারেক রহমানকে এক মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। চেয়ারপারসনের মামলাগুলোও দ্র”ত গতিতে শেষ করা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের এ পরিকল্পনা কখনই বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। সিনিয়র নেতাদের অযোগ্য করে নির্বাচন দিলে তাতে বিএনপি অংশ নেবে কিনা— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। এখনই এ নিয়ে মন্তব্য করার সময় আসেনি।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার প্রক্রিয়াও অনেক দূর এগিয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যেই এ মামলার রায় হতে পারে। নেতা-কর্মীদের শঙ্কা, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, খালেদা জিয়ারও সাজা হতে পারে। দলের আইনজীবীরা বলছেন, ‘সাজা’ হলে খালেদা জিয়াকেও আত্মসমর্পণ করে জেলে যেতে হবে। পরে জামিন চেয়ে আপিল করতে হবে। সরকার হার্ডলাইনে থাকলে তাকেও জেলের ঘানি টানতে হবে। এদিকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংসদসহ সব ধরনের নির্বাচনে অংশ নেওয়া অনেকটাই ‘অনিশ্চিত’। অর্থ পাচার মামলায় সাজা নিয়ে এ সরকারের আমলে তার সশরীরে উপস্থিত হয়ে আপিল করার সম্ভাবনাও কম। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ না করলে সংবিধানসম্মতভাবেই আগামী সাত বছর সব ধরনের নির্বাচনে অযোগ্য হবেন তিনি। আরেক ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকারও দেশে ফিরে আপিল করার সম্ভাবনা খুবই কম। এমনিতেই শারীরিকভাবে অসুস্থ খোকা। তার ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, সরকারের এ মেয়াদে খোকার দেশে ফেরার ইচ্ছা নেই। লুৎফুজ্জামান বাবরেরও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
বিএনপি নেতাদের আশঙ্কা, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ‘সাজা’ কার্যকর হলে দলের ঐক্য ধরে রাখাই কঠিন হবে। দলের সুবিধাবাদীরা সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে অংশও নিতে পারেন। শীর্ষ দুই নেতাকে বাইরে রেখে ‘আগাম’ নির্বাচনও দিতে পারে সরকার। সরকারের মদদে বিএনপি নাম নিয়ে একটি অংশের সেই নির্বাচনে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এখনই সেই ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে এবার বিএনপিতে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করবেন, ভবিষ্যতে তাদের দলে ঠাঁই হবে না বলেও মনে করেন বিএনপির ওই নেতা। ত্যাগী নেতাদের মতে, অতীতে অনেককেই চেয়ারপারসন ক্ষমা করে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে খালেদা জিয়া চাইলেও ত্যাগী নেতা-কর্মীরা তাদের ক্ষমা করবেন না।
বিএনপির আইনজীবীরা বলছেন, নাইকো ও গ্যাটকো দুর্নীতি মামলাসহ ২৭টি মামলার আসামি বেগম জিয়া। শুধু খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানই নন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার, জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়সহ দলের সিনিয়র নেতারাও বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলার আসামি। এ ছাড়াও কারও কারও বিরুদ্ধে ওয়ান-ইলেভেনের দুর্নীতির মামলাও সচল আছে। এই নেতাদের মামলাও দ্রততার সঙ্গে এগিয়ে চলছে।

Facebook Comments Box

সাম্প্রতিক খবর:

কুয়েতে শেষ হলো আকামা বদলের সুযোগ, ২৭ হাজার প্রবাসীর খাত পরিবর্তন

খাদ্য নিরাপত্তা ও নাগরিক সচেতনতা: উন্নত বিশ্বের চেয়ে আমরা ঠিক কতটা পিছিয়ে?

কুয়েতের মরুভূমিতে লাল-সবুজের বিপ্লব

টানা পঞ্চম জয়! কুয়েত সামার লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সের বড় জয়

কুয়েতের আদালতে বাংলাদেশি নাগরিকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড বহাল

বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদী রেসিডেন্সি দিচ্ছে কুয়েত

কুয়েত প্রবাসী কবি ও সাহিত্যিক সঞ্জীব ভদ্র চন্দন আর নেই, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েতের শোক প্রকাশ

প্রবাসের গণ্ডি পেরিয়ে এবার জন্মভূমির সেবায় কামাল হোসেন ভূঁইয়া

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা ও বিমান চলাচল স্থগিত

রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র তোফায়েল আহমেদ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» কুয়েতে জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত

» গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ কুয়েত কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

» কুয়েতে শেষ হলো আকামা বদলের সুযোগ, ২৭ হাজার প্রবাসীর খাত পরিবর্তন

» খাদ্য নিরাপত্তা ও নাগরিক সচেতনতা: উন্নত বিশ্বের চেয়ে আমরা ঠিক কতটা পিছিয়ে?

» কুয়েতের মরুভূমিতে লাল-সবুজের বিপ্লব

» কুয়েত গাউছিয়া কমিটি ফাহাহিল শাখার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে

» টানা পঞ্চম জয়! কুয়েত সামার লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সের বড় জয়

» মৌলভীবাজারে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল আজিজকে নাগরিক সংবর্ধনা

» কুয়েতের আদালতে বাংলাদেশি নাগরিকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড বহাল

» বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদী রেসিডেন্সি দিচ্ছে কুয়েত

Agrodristi Media Group

Advertising,Publishing & Distribution Co.

Editor in chief & Agrodristi Media Group’s Director. AH Jubed
Legal adviser. Advocate Musharrof Hussain Setu (Supreme Court,Dhaka)
Editor in chief Health Affairs Dr. Farhana Mobin (Square Hospital, Dhaka)
Social Welfare Editor: Rukshana Islam (Runa)

Head Office

UN Commercial Complex. 1st Floor
Office No.13, Hawally. KUWAIT
Phone. 00965 65535272
Email. agrodristi@gmail.com / agrodristitv@gmail.com

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
,

বিএনপির শীর্ষ নেতারা ফের গ্রেপ্তার আতঙ্কে

জাকির  সিকদার,স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভুগছেন। এরই মধ্য ৬৮ জন সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর অনেক নেতা প্রকাশ্যে আসছেন না। আত্মগোপনে থেকে দলের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। যারা প্রকাশ্যে আসছেন তদের গ্রেপ্তার আতঙ্ক তাড়া করে ফিরছে। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এরই মধ্য গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ আছেন। তাকে যে কোন সময় গ্রেপ্তার করতে পারে পুলিশ। এছাড়া বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের ৭ বছরের কারাদ- ও ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকাকে ১৩ বছরের সাজা দিয়েছে আদালত। ২৫ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানার নাশকতার মামলায় বিএনপির সিনিয়র ৯ নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ২৭ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে যাত্রী হত্যা চেষ্টার অভিযোগে বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় বিএনপি নেত্রী সেলিমা রহমানসহ ৫৯ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর মতিঝিল থানায় দায়ের করা

নাশকতার একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
এর আগে ৩০ মার্চ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার নাশকতার একটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মাল্লা বিশেষ ক্ষমতা আইনের ওই মামলার চার্জশিট আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। চার্জশিটে খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি হিসেবে ১ নম্বরে রাখা হয়েছে। এরপর ৪ এপ্রিল খালেদা জিয়া আত্মসমর্পণের পর তার জামিন মঞ্জুর করেন মহানগর হাকিম রাশেদ তালুকদার। ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। পাশাপাশি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আগামী ৪ মার্চ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরে বেগম খালেদা

জিয়া আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা সিনিয়র নেতাদের মধ্য রয়েছে- সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, বরকত উল্লাহ বুলু, খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস, সাবেক এমপি সৈয়দা আশরাফি পাপিয়া, খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, মীর সরাফত আলী সফু, হাবিবুন্নবী খান সোহেল।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী ঢাকাসহ সারাদেশে দলের ৭ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ হাজার মামলার খড়গ ঝুলছে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে সিনিয়র সব নেতাই এখন কাঠগড়ার আসামি।
ওয়ান-ইলেভেনের দুর্নীতি মামলাও সমানতালে সচল হচ্ছে। এরই মধ্যে নিম্ন আদালতে খালাস পাওয়া অর্থ পাচারের এক মামলায় উচ্চ আদালতে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৭ বছরের সাজা হয়েছে। অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে দলের আরেক ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার সাজা হয়েছে ১৩ বছর। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরেরও মৃত্যুদ- হয়েছে। সাজা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী ও তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনেরও।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের শঙ্কা, বেগম খালেদা জিয়াসহ সিনিয়র সব নেতাকেই এ পদ্ধতিতে সরকার নির্বাচনে ‘অযোগ্য’ করে সংসদ নির্বাচন দিতে পারে। সেটা আগামও হতে পারে, আবার নির্ধারিত মেয়াদ শেষেও হতে পারে। তবে আগামীতে সংসদ নির্বাচন যখনই হোক অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার নিশ্চয়তা পেলে তাতে অংশ নেবে বিএনপি। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর অধীনে হলেও নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে দলটির নেতা-কর্মীর বড় একটি অংশ। নির্বাচনে অংশ নেওয়া ছাড়া বিএনপির সামনে বিকল্প কোনো পথও খোলা নেই বলে মনে করেন নেতাদের কেউ কেউ।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা করছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে মামলাগুলো তড়িঘড়ি করে শেষ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তারেক রহমানকে এক মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। চেয়ারপারসনের মামলাগুলোও দ্র”ত গতিতে শেষ করা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের এ পরিকল্পনা কখনই বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। সিনিয়র নেতাদের অযোগ্য করে নির্বাচন দিলে তাতে বিএনপি অংশ নেবে কিনা— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। এখনই এ নিয়ে মন্তব্য করার সময় আসেনি।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার প্রক্রিয়াও অনেক দূর এগিয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যেই এ মামলার রায় হতে পারে। নেতা-কর্মীদের শঙ্কা, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, খালেদা জিয়ারও সাজা হতে পারে। দলের আইনজীবীরা বলছেন, ‘সাজা’ হলে খালেদা জিয়াকেও আত্মসমর্পণ করে জেলে যেতে হবে। পরে জামিন চেয়ে আপিল করতে হবে। সরকার হার্ডলাইনে থাকলে তাকেও জেলের ঘানি টানতে হবে। এদিকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংসদসহ সব ধরনের নির্বাচনে অংশ নেওয়া অনেকটাই ‘অনিশ্চিত’। অর্থ পাচার মামলায় সাজা নিয়ে এ সরকারের আমলে তার সশরীরে উপস্থিত হয়ে আপিল করার সম্ভাবনাও কম। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ না করলে সংবিধানসম্মতভাবেই আগামী সাত বছর সব ধরনের নির্বাচনে অযোগ্য হবেন তিনি। আরেক ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকারও দেশে ফিরে আপিল করার সম্ভাবনা খুবই কম। এমনিতেই শারীরিকভাবে অসুস্থ খোকা। তার ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, সরকারের এ মেয়াদে খোকার দেশে ফেরার ইচ্ছা নেই। লুৎফুজ্জামান বাবরেরও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
বিএনপি নেতাদের আশঙ্কা, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ‘সাজা’ কার্যকর হলে দলের ঐক্য ধরে রাখাই কঠিন হবে। দলের সুবিধাবাদীরা সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে অংশও নিতে পারেন। শীর্ষ দুই নেতাকে বাইরে রেখে ‘আগাম’ নির্বাচনও দিতে পারে সরকার। সরকারের মদদে বিএনপি নাম নিয়ে একটি অংশের সেই নির্বাচনে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এখনই সেই ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে এবার বিএনপিতে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করবেন, ভবিষ্যতে তাদের দলে ঠাঁই হবে না বলেও মনে করেন বিএনপির ওই নেতা। ত্যাগী নেতাদের মতে, অতীতে অনেককেই চেয়ারপারসন ক্ষমা করে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে খালেদা জিয়া চাইলেও ত্যাগী নেতা-কর্মীরা তাদের ক্ষমা করবেন না।
বিএনপির আইনজীবীরা বলছেন, নাইকো ও গ্যাটকো দুর্নীতি মামলাসহ ২৭টি মামলার আসামি বেগম জিয়া। শুধু খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানই নন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার, জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়সহ দলের সিনিয়র নেতারাও বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলার আসামি। এ ছাড়াও কারও কারও বিরুদ্ধে ওয়ান-ইলেভেনের দুর্নীতির মামলাও সচল আছে। এই নেতাদের মামলাও দ্রততার সঙ্গে এগিয়ে চলছে।

Facebook Comments Box

সাম্প্রতিক খবর:

কুয়েতে শেষ হলো আকামা বদলের সুযোগ, ২৭ হাজার প্রবাসীর খাত পরিবর্তন

খাদ্য নিরাপত্তা ও নাগরিক সচেতনতা: উন্নত বিশ্বের চেয়ে আমরা ঠিক কতটা পিছিয়ে?

কুয়েতের মরুভূমিতে লাল-সবুজের বিপ্লব

টানা পঞ্চম জয়! কুয়েত সামার লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সের বড় জয়

কুয়েতের আদালতে বাংলাদেশি নাগরিকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড বহাল

বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদী রেসিডেন্সি দিচ্ছে কুয়েত

কুয়েত প্রবাসী কবি ও সাহিত্যিক সঞ্জীব ভদ্র চন্দন আর নেই, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েতের শোক প্রকাশ

প্রবাসের গণ্ডি পেরিয়ে এবার জন্মভূমির সেবায় কামাল হোসেন ভূঁইয়া

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা ও বিমান চলাচল স্থগিত

রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র তোফায়েল আহমেদ


এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Exchange Rate

Exchange Rate EUR: Fri, 28 Aug.

সর্বশেষ খবর



Agrodristi Media Group

Advertising,Publishing & Distribution Co.

Editor in chief & Agrodristi Media Group’s Director. AH Jubed
Legal adviser. Advocate Musharrof Hussain Setu (Supreme Court,Dhaka)
Editor in chief Health Affairs Dr. Farhana Mobin (Square Hospital, Dhaka)
Social Welfare Editor: Rukshana Islam (Runa)

Head Office

UN Commercial Complex. 1st Floor
Office No.13, Hawally. KUWAIT
Phone. 00965 65535272
Email. agrodristi@gmail.com / agrodristitv@gmail.com

Bangladesh Office

Director. Rumi Begum
Adviser. Advocate Koyes Ahmed
Desk Editor (Dhaka) Saiyedul Islam
44, Probal Housing (4th floor), Ring Road, Mohammadpur,
Dhaka-1207. Bangladesh
Contact: +8801733966556 /+8801316861577

Email Address

agrodristi@gmail.com, agrodristitv@gmail.com

Licence No.

MC- 00158/07      MC- 00032/13

Design & Devaloped BY Popular-IT.Com
error: দুঃখিত! অনুলিপি অনুমোদিত নয়।